About Us

Friday, September 12, 2025

জামায়াত-শিবিরের ১৯৭১ এর ভূমিকায় AI কি বলে দেখুন

 

জামায়াত-শিবিরের ভূমিকা: বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে তারা কার পক্ষে ছিল?

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল এ দেশের মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তানি সেনারা যখন অপারেশন সার্চলাইট চালিয়ে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু করে, তখন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা মুক্তির জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু সবাই এই মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন দেয়নি। স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল একটি রাজনৈতিক শক্তি—জামায়াতে ইসলামি এবং তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির


স্বাধীনতার বিরোধিতা

জামায়াতে ইসলামি শুরু থেকেই পাকিস্তানের অখণ্ডতা বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়। তারা স্বাধীন বাংলাদেশের আন্দোলনকে “বিদ্রোহ” বলে আখ্যা দেয় এবং দাবি করে যে, এটি ভারতের ষড়যন্ত্রে পাকিস্তান ভাঙার চেষ্টা। ফলে মুক্তিকামী জনগণের সঙ্গে না দাঁড়িয়ে তারা প্রকাশ্যে পাকিস্তানি শাসকদের পক্ষ নেয়।

পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগী বাহিনী গঠন

জামায়াতের নেতারা পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতায় কুখ্যাত রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী গঠন করে। এ বাহিনীগুলো মূলত মুক্তিকামী মানুষদের ওপর দমন-পীড়ন চালাতো। মুক্তিযোদ্ধাদের ধরিয়ে দেওয়া, গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া, নিরপরাধ মানুষ হত্যা—এসব ছিল তাদের নিত্যদিনের কাজ।

মানবতাবিরোধী অপরাধ

সবচেয়ে ঘৃণিত ভূমিকা ছিল আলবদর বাহিনীর, যেখানে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর—যুদ্ধের শেষ প্রান্তে—তারা পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের মেধাবী বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। দেশের শীর্ষ শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ অনেককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীন বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করে দেওয়া।

যুদ্ধাপরাধের বিচার

স্বাধীনতার পরে এসব অপরাধের জন্য জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারে প্রমাণিত হয়েছে যে, তারা পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগী হয়ে গণহত্যা, নারী নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ অসংখ্য মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। অনেকে ইতোমধ্যেই মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সাজা পেয়েছে।

উপসংহার

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে জামায়াত-শিবিরের ভূমিকা এক কালো অধ্যায়। যখন গোটা জাতি মুক্তির জন্য রক্ত দিচ্ছিল, তখন তারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে হত্যাযজ্ঞে অংশ নেয়। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার এ ভূমিকা আজও জাতি স্মরণ করে ঘৃণার সঙ্গে।

0 comments:

Post a Comment

Twitter Delicious Facebook Digg Favorites More